প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৩

দেশের শিল্প খাতে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন একটি ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটগুলোতে ধানের তুষ বা রাইস হাস্ক এবং কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।
শিল্প খাতের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা সম্ভব। আধুনিক স্টোরেজ ব্যবস্থা যুক্ত করা গেলে দিনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই অবদান ভবিষ্যতে ৫০ শতাংশে উন্নীত করাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট বিবেচনায় অধিক জ্বালানি নির্ভর শিল্পের পরিবর্তে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন খাত আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গ্যাস বিতরণ সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাসের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে শিল্প উৎপাদনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।