প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৭

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট তৈরি করেনি; বরং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
আমির খসরু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে মজুত পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা বাড়িয়ে এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি কমাতে সরকার হাতে থাকা বিভিন্ন সম্পদ কাজে লাগিয়ে কাজ করছে। তবে এ সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ চালু করেছে, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, কোনো ঋণ বাস্তবে আদায় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে শুধু কাগজে সেটিকে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে দেখিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা তৈরিতে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও এবার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
আমির খসরু বলেন, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।