
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ২১:১৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অনুষ্ঠিত প্রমিলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে টাইব্রেকারে রাজবাড়ী মহিলা দলকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বরিশাল মহিলা দল। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই ২-২ গোলে সমতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে বরিশালের ফুটবলাররা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজ মাঠে এ ম্যাচের আয়োজন করে আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌর শাখা। “সুস্থ দেহে সুন্দর মন, গড়ে তোলে ক্রীড়াঙ্গন” এবং “একটি ফুটবল, একটি পৃথিবী” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ম্যাচ দেখতে মাঠে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক।
খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে উভয় দলের সংগ্রহ সমান ২ গোল হওয়ায় ম্যাচের ফল নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে সফলভাবে গোল আদায় করে বরিশাল মহিলা দল। অন্যদিকে রাজবাড়ী দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শট প্রতিহত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হয় বরিশালের। দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বরিশাল মহিলা দলের ১১ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় স্বর্ণা। পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতিময় পারফরম্যান্স ও বল নিয়ন্ত্রণ দর্শকদের নজর কেড়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মো. রোস্তম মোল্লা এবং গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক ফুটবলার মো. শামীম মোল্লাসহ স্থানীয় ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এ সময় খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল করিম মৃধা মুক্তার, আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি এরশাদ মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সরদার, পৌর কমিটির সভাপতি রোমান মিয়াসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রেফারির দায়িত্ব পালন করেন গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির কোচ নিত্যানন্দ নন্দী, সহকারী রেফারি ছিলেন সুলতান মাহমুদ সবুজ ও মো. নিজাম মোল্লা।
খেলা শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অতিথিরা অংশগ্রহণকারী দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে জার্সি তুলে দেন। নারী ফুটবলের প্রসার ও তরুণীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অতিথিরা।