
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১৯:২৭

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের উপনিবেশিক আমলের ‘The Public Gambling Act, 1867’ বাতিল করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর করার পথ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভিপিএন, মিরর সাইট, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম ও ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টসহ ২৪ ধরনের বিষয়ের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, আর অনলাইন জুয়া পরিচালনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনলাইন বেটিং এবং বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়া প্রচারের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট বা ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা এবং ভুয়া সিম বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন কিংবা অর্থপাচারের চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং–সংশ্লিষ্ট অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, ডিজিটাল ওয়ালেট, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পাবেন।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং, আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।