
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ২০:৫৩

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে সুলতান আলী (৭০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ফয়েজ আলী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের মন্ত্রীগাঁও গ্রামে। যদিও শুক্রবার রাতেই এ ঘটনা ঘটে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। শনিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত সুলতান আলী একজন কৃষক ছিলেন। তার ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট আটজন সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত ফয়েজ আলী সৌদি আরব থেকে গত ২৪ জুন দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই বসতঘর নিয়ে বাবার সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
শুক্রবার রাতে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফয়েজ আলী ঘরে থাকা একটি কুড়াল দিয়ে বাবার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন সুলতান আলী।
স্বজনরা আহত সুলতান আলীকে দ্রুত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর অভিযুক্ত ছেলে হাসপাতালেই বাবার মরদেহ রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা জুড়ী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহতের ছেলে শাহেদ আলী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জুড়ী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে একই জেলায় শ্রীমঙ্গল উপজেলায়ও পৃথক এক ঘটনায় চায়ের দোকানে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সোহেল মিয়া (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে মৌলভীবাজার জেলায় উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।