মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহায়তার লক্ষ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হাইল হাওর অধ্যুষিত ভূনবীর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ কৃষক পরিবারের মাঝে ৩ লাখ টাকার চেক ও ১ হাজার ৫০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩ মাস পরিবার প্রতি ১৫ কেজি হারে চাল এবং ৩ হাজার টাকা হারে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তায়
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বমোট ৪ হাজার ৭৮৭টি কৃষক পরিবারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মে-জুন মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে ১হাজার ৭৮৭টি কৃষক পরিবারকে মাসিক ১৫ কেজি হারে চাল এবং নগদ ৩ হাজার হারে প্রদানের জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তন্মধ্যে হাইল হাওর অধ্যুষিত ভূনবীর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ কৃষক পরিবারের মাঝে মে মাসের জন্য পরিবার প্রতি ১৫ কেজি চাল এবং ৩ হাজার টাকার চেক বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন ভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মাঝে বাকি ১ হাজার ৬৮৭টি পরিবারকে মে এবং জুন মাসের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। জুলাই মাসের বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তীতে তা বিতরণ হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় হাওরাঞ্চলের কৃষকরা চরম ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। তাদের এই সংকটের মুহূর্তে পাশে দাঁড়াতে সরকার দ্রুত এই মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে নগদ অর্থ ও চাল সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যা গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে করে বরাদ্দ পায় সে বিষয়ে তিনি চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন বলেও জানান।
ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেনো মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী কৃষক, গণমাধ্যমকর্মী, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।