ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী নীরবকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার জেরে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৮ মার্চ) ভোর রাতে কে বা কারা ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে আগুন দেয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে পাম্পের তিনটি মেশিন ভাঙচুর করে। সৃজনী পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার আলামিন শেখ জানান, শনিবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে একদল লোক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ভাঙচুর চালায়।
এর আগে সৃজনী এনজিওর মালিক, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
নীরব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার সকালে বাস শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার দুপুরে নিহত নীরবের পালিত পিতা শহরের বাপারীপাড়ার আবুল কাশেম চারজনের নামে মামলা করেন।
র্যাব ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল এবং কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত দশটার দিকে তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নীরব নিহত হন। নিহত নীরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে।