১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সংঘটিত সম্মুখযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এবারও পালিত হলো ‘সম্মুখযুদ্ধ ও প্রতিরোধ দিবস’। বেসরকারিভাবে ২০১৫ সাল থেকে এ দিবসটি পালিত হলেও এখনো তা সরকারিভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ভাষ্কর্য নির্মাণকাজও। বক্তারা দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন ও দিবসটি সরকারিভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ এপ্রিল) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাস্কর্য নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী জুয়েল বাহাদুর। প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মোহিত হীরা।
বক্তব্য দেন পৌর বিএনপি'র সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো. বিল্লাল, সাংবাদিক রাশেদুল হক রায়হান প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে দিবসটি পালনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো হচ্ছে। ২০১৮ সালে জুয়েল বাহাদুরের পিতা ইউসুফ আলীর দানকৃত জমিতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ লাখ টাকায় ভাষ্কর্য নির্মাণকাজ শুরু হলেও পুরো কাজ শেষ করতে প্রয়োজন প্রায় ২০-২২ লাখ টাকা।
জুয়েল বাহাদুর বলেন, “এই দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। ২১ এপ্রিল গোয়ালন্দে প্রথম পাক হানাদার বাহিনী নদীপথে প্রবেশ করে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। বাজারসহ কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। শহীদ হন বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ।”
সেদিনের প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয় ইপিআর, আনসার ও মুক্তিযোদ্ধারা। নেতৃত্ব দেন ইপিআর কমান্ডার এসডিও শাহ ফরিদ, মুক্তিযোদ্ধা নেতা ফকীর আব্দুল জব্বার ও কেরামত আলী প্রামানিক। শহীদদের মধ্যে ছিলেন ফকির মহিউদ্দিন, কবি তোফাজ্জল হোসেন, ফুলবরু বেগম, বরুজান বিবি, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগীসহ বহু মানুষ।
বক্তারা বলেন, "এই ঐতিহাসিক দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে দ্রুত ভাষ্কর্য নির্মাণ ও সরকারিভাবে দিবস পালনের কোনো বিকল্প নেই।"