ঈদুল ফিতর শেষ। ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মমুখী মানুষ। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলায় প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট প্রান্তে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের বিআইডব্লিউটিএর ৪০ টাকা ভাড়ার প্রবেশ পথের টিকিট কাউন্টারে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
এদিকে সকাল থেকেই ফেরিঘাটে থেমে থেমে যাত্রীরা এসে নদী পাড়ি দিচ্ছে। সেইসাথে ছোট গাড়ির সংখ্যা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
মধুখালি থেকে ঢাকামুখী যাত্রী হেমায়েত হোসেন বলেন, ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলাম। অফিসের ছুটি শেষ হলে সকালে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে লঞ্চঘাটে এসেছি; পথে ও ঘাটে কোনোরকম ভোগান্তি নেই। ভালোভাবেই ঢাকায় যেতে পারব।
যশোর থেকে আসা সাভারগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, সাভারের নবীনগরে গার্মেন্টসে চাকরি করি। রবিবার সকালে অফিস করব বলে তাড়াতাড়ি বাড়ি হতে রওনা হয়েছি। লঞ্চঘাটে ভোগান্তি নেই বলে জানান এ নারী।
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট মালিক সমিতির দায়িত্বরত ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, প্রতিটি লঞ্চে আমাদের যাত্রীসংখ্যা নির্ধারণ করেই ঘাট থেকে ছাড়ছে। লঞ্চে বাড়তি কোনো রকম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে। আমরা যাত্রীদের যাত্রা নির্বিগ্নে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাফিক বিভাগের ঘাট তত্বাবধায়ক মো. শিমুল ইসলাম বলেন, এ নৌরুটে ২০টি লঞ্চ চলছে। শনিবার সকাল থেকে কর্মমূখী মানুষ ছুটতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় সবাই স্বস্তিতেই কর্মস্থলে যেতে পারছেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চলাচল করছে। বর্তমানে ঘাটে কোন যানবাহনের সিরিয়াল নেই। ঘাটে আসা মাত্রই যে কোন যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুর রহমান জানান, আজ শনিবার সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বাড়লেও ঘাটে কোন প্রকার ভোগান্তি নেই। মানুষ সরাসরি ঘাটে এসে ফেরি ও লঞ্চে নদী পার হতে পারছে। এছাড়াও ঘাটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঈদের আগে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি। ঘাটে চুরি, ছিনতাই, দালাল ও যানজট কমাতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি মানুষ ঈদ আনন্দ শেষে নির্বিগ্নে কর্মস্থলে যেতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ঘাটে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করে কাজ করেছেন।