আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬ হাজার ২২৫টি খামার ও বাড়িতে মোট ৭৪ হাজার ৫৮৪টি গবাদিপশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২টি পশু। ফলে চাহিদা পূরণের পরও উদ্বৃত্ত থাকছে ২ হাজার ৮১২টি পশু।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী, রাজনগর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় খামারের পাশাপাশি বাড়িতেও পশু লালন-পালন চলছে। উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার সদরে প্রস্তুত রয়েছে ১৬ হাজার ১৭৮টি পশু, যেখানে চাহিদা ১৫ হাজার ৮৪৭। রাজনগরে প্রস্তুত ৮ হাজার ১৬৭, চাহিদা ৭ হাজার ৯১২। কুলাউড়ায় প্রস্তুত ১৪ হাজার ৯৬৪, চাহিদা ১৩ হাজার ৮৬৫। বড়লেখায় প্রস্তুত ১২ হাজার ২৩৯, চাহিদা ১২ হাজার ২২৮। কমলগঞ্জে প্রস্তুত ৫ হাজার ৭১৩টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৬ হাজার ৬১৫। শ্রীমঙ্গলে প্রস্তুত ১০ হাজার ৪৯৪, চাহিদা ৮ হাজার ৩৭৩ এবং জুড়ীতে প্রস্তুত ৬ হাজার ৮২৮টি পশু, চাহিদা ৬ হাজার ৭৩২।
খামারিরা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ভুসি, ধানের কুড়া, খৈল, খড় ও ঘাসসহ বিভিন্ন খাদ্যের দাম বাড়ায় প্রতি গরু প্রস্তুত করতে খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কালিয়ারগাঁও গ্রামের খামারি ইমাদ মিয়া জানান, তিনি এবছর কোরবানির জন্য ১৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন। শ্রীমঙ্গলের খামারি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মহিষসহ ১০টি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকলেও বাজারমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন খামারে এখন থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আগাম পশু পছন্দ করে বুকিং দিচ্ছেন। খামারিরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পশুর আলাদা নামকরণও করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল খান বলেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।