প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ২০:৫১

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) বাবদ বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধের পরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মার্চ-এপ্রিল সময়ের আমদানি দায় মেটাতে প্রায় ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার পরিশোধ করা হলেও রিজার্ভ এখনো ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১০ মে শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আকুর বিল পরিশোধের সময় সাধারণত রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকায় সেই চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে ডলারের বাজারেও এখন তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
শুধু ৭ থেকে ৯ মে এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ধারাবাহিকভাবে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ পরিস্থিতিও ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি এবং বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালুর কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তবে সামনে জ্বালানি আমদানি ব্যয়, বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং বড় প্রকল্পের বৈদেশিক দায় মেটানোর চাপ রয়েছে। তাই রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা অব্যাহত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।