প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:৩৬
ইতিমধ্যে শেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। এদিন সকাল ৮টার পর কোনো প্রার্থী জনসভা, পথসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। তবে নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। ফলে শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। রাত পোহালেই ভোট। অপেক্ষার পালা শেষ। এখন শুধু উৎকণ্ঠা। প্রার্থী, কর্মী, সমর্থক থেকে শুরু করে ভোটার পর্যন্ত এখন মহাটেনশনে। সরাইল- আশুগঞ্জ জুড়ে ভোটারদের কৌতুহল। বিজয়ের শেষ হাসি নিয়ে কে হবেন সংসদ সদস্য? তা জানার জন্য এখন আর ধৈর্য
ধরতে চাচ্ছে না উপজেলাবাসী। প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেলেও দিনভর নির্বাচনী এলাকায় প্রশ্ন ছিল ‘কি বোঝেন? কে হবে’। এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেয়েছে সরাইল- আশুগঞ্জের মাঝে। কেউ যেন ভোটের ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নয়। ভোট না দিয়েই এমপির নামটি জানার জন্য ভোটাররা মহাটেনশনে শনিবার দিনটি পার করেছেন।
প্রকাশ্য প্রচার প্রচারনা না থাকায় সাধারণ ভোটাররা ছিলেন চুপচাপ। কিন্তু সংসদ সদস্য পদটি দখল করতে শেষ দিনেও প্রার্থীরা প্রানান্তকর চেষ্টা থেকে পিছপা হননি। তারা শুক্রবার দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এ লক্ষে এখানকার নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। এই দুই উপজেলায় রয়েছে ১৭টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে সরাইল উপজেলায় রয়েছে ৯টি ইউনিয়ন ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সরাইল-আশুগঞ্জ আসনে- ৪ লাখ ১০ হাজার ৭২ জনওএকজন হিজড়া ভোটার। ভোটারের মধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৬ জন ও পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৫জন। ভোগ গ্রহনের জন্য ১৩২টি কেন্দ্র নির্ধারিত করা হয়েছে।সরেজমিনে জানাযায়, নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জিয়াউল হক মৃধার ঈগল পাখিও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন মঈন কলার ছড়ির মধ্যে। ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে
জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো.রেজাউল ইসলাম ভূইয়া লাঙ্গল, নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা বাকীরা হলেন,ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. আবুল হাসনাত মিনার, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. রাজ্জাক হোসেন আম, তৃণমূল বিএনপির মাইনুল হোসেন তুষার সোনালী আঁশ, ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মো.এমরানুল ইসলাম জানান,নির্বাচনের ভোটগ্রহনের দিন দুই শতাধীক পুলিশ মাঠে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী,র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহীনি কাজ করবেন। কেউ কোন সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় নেয়া হবে। এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেকরাও ভোটের মাঠে থাকবে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরাইল থানা ওসি বলেন. আমরা কোনো বহিরাগত দেখতে চাই না। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী-রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.মেজবা উল আলম ভূইয়া জানান,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র গুলোতে থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না। এ সময় তিনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।