
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২২, ১৭:৪৮

হাজারো চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। কোটি কোটি মানুষের বহুদিনের কাঙ্খিত এই সেতু গতকাল (২৫শে-জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদ্মাসেতু নির্মাণ করা খুব একটা সহজ কাজ ছিলো না তবুও এই দুঃসাধ্য কাজ সম্পুর্ন করে প্রশংসার সাগরে ভাসছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সর্বমোট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যায়ে দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।
দেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জেলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উচ্চতর স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নানান লোকের নানান কথাকে পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। পদ্মাসেতু নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানান সমালোচনার জন্ম দেয় বিভিন্ন মহল। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সেসব প্রপাগাণ্ডা থেকে মানুষেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সমস্ত সমালোচনা ও প্রপাগাণ্ডাকে জয় করে পদ্মাসেতু এখন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পদ্মাসেতুর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জেলা মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর সহ বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল নানানভাবে যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে সেতুটি দিয়ে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের সোপান হিসেবে কাজ করবে পদ্মাসেতু। তবে, দেশের মানচিত্রের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত মেহেরপুর জেলা বিশেষ কোন সুবিধা না পেলেও যোগাযোগ ব্যাবস্থার এই উন্নতির ফলে বেশ ভোগান্তি ও যানজট মুক্ত হবে বলে মনে করছেন মেহেরপুরের সচেতন মহল। পাটুরিয়াগামী ও দৌলদিয়াগামী ঘাটের দীর্ঘ যানজট মুক্ত হবে এই পদ্মাসেতুর মধ্যে দিয়ে। যার ফলে শাকসবজি জাতীয় মালামাল থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যাবস্থায় অসামান্য অবদান রাখবে পদ্মাসেতু।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি