
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২২, ২২:৩৫

ষাটোর্ধ্ব ফটিক মোল্লা। রাজবাড়ী জেলার পদ্মা নদীর পারে আদি বসত বাড়ী ছিল তার। একাধিকবার ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের কারণে জেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী-অস্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হয়েছে। সর্বশেষ ভাঙনের কারণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইদ্রিস শেখের পাড়া অন্যের জমিতে আশ্রয় মিলে তার।
আশ্রয় পাওয়া জমিতে কোন রকম একটি ঝুঁপড়ি ঘর তুলে বসবাস করতেছিলো ফটিক মোল্লা। কিন্ত এরই মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ফটিক মোল্লা হারিয়েছেন বাপ-দাদার আদি বসতি, এলাকার পাড়া-প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন। হারিয়েছেন আবাদি জমি। সংসারে ছিল না কোন অভাব-অনাটন। তবে একাধিকবার ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের কারণে অভাব এসে দাঁড়িয়েছে পরিবারে। অভাবের সাথে যোগ হয়েছে একাকী জীবন।
পাশে নেই আপন কেউ পাড়া-প্রতিবেশী। বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন। এমনি ভাবে জীবন কাঁটতে ছিল ফটিক মোল্লার।ফটিক মোল্লার মতো অভাব অনাটনের মধ্যে জীবন চালাচ্ছে মোজাহার মোল্লা ও হারু মোল্লা। তাদের বয়সও ফটিক মোল্লার মত। সংসারে কোন অভাব না থাকলেও একাধিকবার পদ্মা নদী ভাঙনের কারণে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যের জায়গায়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়ী কাজ করে সংসার চালাতে হয়। অন্যের বাড়ী কাজ করে কোন রকম জীবন যাপন করতে পারলেও থাকার মত নেই কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকায় কোন রকম ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করতে হয়। এমনি দূরদিনে পাশে এসে দাঁড়ায় মুজিব শত বর্ষের আশ্রয় প্রকল্পের পাকা ঘর। এই তিন ষাটোর্ধ্ব অসহায় ব্যক্তিরা মুজিব শত বর্ষের আশ্রয় প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়ে শেষ বয়সে শ্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন। কাজের পাশাপাশি গল্প করে অবসর সময় কাঁটান তারা।
এসময় কথা হয় ষাটোর্ধ্ব ফটিক মোল্লার সাথে। তিন বলেন, অভাবের সাথে একাকী জীবন নিয়ে ঝুঁপড়ি ঘরে সময় কাঁটাতে হতো। কিন্ত মুজিব কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া পাকা ঘর পেয়েছি।এখানে এসে পেয়েছি আমার মত আরও অসহায় ৬০টি পরিবার,পাড়া প্রতিবেশী, আত্নীয় স্বজনসহ অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব। এখন এই শান্তির জায়গায় বসবাস করে মরে গিয়েও শান্তি পাওয়া পাবো।

তিনি আরও বলেন, অবসর সময়ে আমরা যারা বয়স্ক ব্যক্তিরা আছি তারা পাকা ঘরের বাড়ান্দায় বসে সময় কাটাই। বসে গল্প করি। স্মৃতি চারন করি ফেলে আসা সেই সোনালী দিনগুলো নিয়ে। এসময় পাশে বসে থাকা অসুস্থ্য মোজাহার মোল্লা বলেন, অসুস্থ্য, তবুও এখানে এসে অসংখ্য আপন ব্যক্তি পেয়েছি। পেয়েছি অনেক বন্ধু।
পেয়েছি আমার মতো অনেক বয়স্ক ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, গ্রামে এক সময় নিজের বাড়ীর বারান্দায় বসে পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে বসে অনেক সময় কাঁটিয়েছি। কিন্ত পদ্মার ভয়াবহ নদী ভাঙনে সব হারিয়ে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে দীর্ঘ বছর কাঁটিয়েছি। সেই ঝুঁপড়ি ঘরে অসুস্থ্য শরীর নিয়ে কখনও ভাবিনি আবারও পাকা ঘরের বারান্দায় বসে সময় কাঁটাতে পারবো। তবে শেখ হাসিনার কল্যাণে সেটা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর কাছে শেখ হাসিনার জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেন অসহায় মানুষের পাশে সব সময় দাঁড়াতে পারেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল হক খান জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা মুজিব শত বর্ষের ঘরগুলো সুন্দর ভাবে নির্মিত হয়েছে এবং অনেক ভেবে চিন্তে সঠিক জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে। সকল সুবিধাভোগীরা যেন সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খাঁন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের কোন মানুষ যেন গৃহহীন না থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ী জেলায় ২য় পর্যায়ে গৃহহীনদের মাঝে পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকলের দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমি মুজিব শত বর্ষের ঘর গুলো দেখেছি। রাজবাড়ী জেলার সকল ঘরগুলো সুন্দর ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেনি। আমি বিশ্বাস করি কেউ কোন প্রকার অভিযোগ করতেও পারবে না।