
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২, ২০:৩২

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পীরে-কামেল হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর পাক রওজায় সমাপ্ত হলো তিনদিন ব্যাপী বার্ষিক ওরছ শরীফ। রবিবার (১৩ মার্চ) ৫৮ তম বার্ষিক ওরছ শরীফে এবং আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহন করেন, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ আ,ফ,ম রুহুল হক(এমপি), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির,
মিশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সহ সরকারি গুরুত্বপুর্ণ পদস্থ কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় মিশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধী ও দেশ বিদেশ থেকে আশা হাজার হাজার ভক্ত আশেকান। উল্লেখ্য যে, উপ-মহাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক, দার্শনিক, মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত, সুফী-সাধক, সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব গওছে জামান আরেফ বিল্লাহ হজরত শাহ্ছুফী খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর মহা পবিত্র ওরছ শরীফ উপলক্ষে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে নলতা শরীফকে।
পবিত্র রওজা শরীফ রঙ-বেরঙের আলোর ঝলকানি আর রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে বহুবিধ ফুল গাছগুলো সুশোভিত আর সুগন্ধ ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে নলতা শরীফের সুগন্ধির আবহ। দেশ বিদেশের বহু এলাকা হতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদভারে প্রকম্পিত এবং উজ্জীবিত নলতা শরীফ। দেশের সব প্রান্ত হতে দলে দলে লোক আসছে নলতা শরীফে। এছাড়াও সুবিশাল সামিয়ানা, গেট, প্যান্ডেল, আলোক উজ্জ্বল আভার বিচ্ছুরনে নলতা শরীফ অভাবনীয় ভাবে জ্বলছে তো জ্বলছে। গত কয়েক দিন যাবৎ নলতা শরীফ সহ আশেপাশের এলাকার গ্রামগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের পদভারে প্রকম্পিত বিস্তীর্ণ জনপদ।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বৃটিশ শাসনামলে নলতা শরীফের পীর খ্যাত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) শিক্ষা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা বিস্তার এবং প্রসারের পাশাপাশি মনীষী সমাজ সংস্কারক এবং ইসলাম প্রচারে বিশেষ ভুমিকা রাখেন। রবিবার সকাল ৯ টায় রওজা শরীফ ময়দানে লক্ষ জনতার অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আখেরী মোনাজাত। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নলতা শরীফ শাহী মসজিদের পেশ ঈমাম হজরত মাওঃ মুফতি আবু ছাইদ (রংপুরী)। এসময় আমিন আমিন ধ্বনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে নলতা শরীফ এলাকা। বৃহৎ এ মোনাজাতে অংশগ্রহনের জন্য দুর দুরান্ত থেকে মুসুল্লীগণ ফজরের নামাজ পড়েই ছুটে আসেন।
সবমিলে অনেক শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে তিনদিন ব্যাপী নলতার ওরছ শরীফ। পাক রওজা শরীফ এলাকা সংলগ্ন অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী জনস্রোত বইছে। সেই সাথে বহুবিধ পণ্যসামগ্রী নিয়ে বসেছে ছোট বড় শত শত দোকান। মনোহরী হতে শুরু করে ঘর গৃহস্থলী, ইলেট্রনিক্স, বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী শোভা পাচ্ছে নলতা শরীফের ওরছ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে কালিগঞ্জ থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা'র তদারকীতে পুলিশ বাহিনী, গ্রাম পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্য, স্কাউটস্, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরালস চেষ্টা করেছে। যানবাহন রাখার সু-ব্যবস্থা,

মিলাদ শরীফের স্টল, এ্যালটমেন্ট কক্ষ, রন্ধনশালা সহ আহ্ছানিয়া মিশন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নলতা শরীফ সহ আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশ বিরাজ করছে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ৫৮ তম বার্ষিক ওরছ শরীফে যে সমস্ত আলেমগণ পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে নলতা পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণের মাহফিল মাঠে ওলী-আউলিয়াদের জীবনাদর্শ আলোচনা করেছেন তারা হলেন, শুক্রবার (১১ মার্চ) পীরে কামেল আলহাজ্জ হযরতুল আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী (পীর সাহেব, গাছতলা দরবার শরীফ,
চাঁদপুর), আলহাজ্জ মুফতি মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত ফয়েজী (খতিব), মসজিদ-এ-বেলাল (রা.), আরবী প্রভাষক, কাদেরিয়া তৈয়েবিয়া কামিল মাদরাসা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা), এ্যাড. হাফেজ মাওলানা মুফতি নুর মোহাম্মদ আল ক্বাদেরী (খতিব ও পেশ ইমাম, ঐতিহ্যবাহী সওদাগর জামে মসজিদ, বাণিজ্যিক এলাকা, হবিগঞ্জ), মুফতি শাইখ মোহাম্মদ উসমান গনী (সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইন্সটিটিউট অব সুফীজম, ঢাকা)। শনিবার (১২মার্চ) আলহাজ্জ হজরত মাওলানা মো.আব্দুর রাজ্জাক (খতিব, সোবহানবাগ জামে মসজিদ, ঢাকা), হজরত মাওলানা শায়ের মোহাম্মদ হাছানুর রহমান হোছাইন নক্সবন্ধী (পরিচালক, দক্ষিণ শ্রীপুর দরগাহ বাড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, হাজীগঞ্জ,
চাঁদপুর), আলহাজ্জ হজরত মাওলানা আল্লামা মুফতি আব্দুল মজিদ পিরিজপুরী (হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার কেন্দ্রীয় সুন্নী জামে মসজিদের খতিব এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক), আলহাজ্জ অধ্যাপক হাফেজ হাফিজুর রহমান (খতিব, গুলশান-১, জামে মসজিদ, ঢাকা), আলহাজ্জ মুফতি মাওলানা মো. আবু সাঈদ জিহাদী রংপুরী ( খতিব, নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদ)। প্রসঙ্গতঃ প্রতিবছর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি নলতা পাক রওজা শরীফের তিন দিন ব্যাপী বার্ষিক পবিত্র ওরছ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এবছর সকল আয়োজন সম্পন্ন করার পরও করোনা পরিস্থিতির কারনে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত দিনে ওরছ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়নি।