
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১, ২১:৩২

কাক ডাকা ভোর হতে না হতেই মেহেরপুরের পাড়া মহল্লায় হাক দিতেন ফেরিওয়ালারা। হরেক রকমের মালামাল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতেন। ফেরিওয়ালার হাক শুনে ছোট ছোট বাচ্চারা ঘিরে ধরতো তাদের। ক্রয় করতো নানান রকমের জিনিসপত্র। সে যেন এক উৎসবের আমেজ। সেসব দিন এখন গল্পে শুধুমাত্র।
দিন বদলে গেছে। গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। মানুষ এখন আর ফেরিওলার কাছ থেকে বাঁশি, চুল বাধা ফিতা, হাতের চুরি, কানের দুল, নাকের ফুল, গলার নেকলেস, কসমেটিক্স কিংবা খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করেনা। এখন গ্রাম অঞ্চলের দোকানপাটে মানুষের সৌখিনতা ও সৌন্দর্য বধনের সব মালামাল পাওয়া যায়, তাই মানুষ শহরমুখীও কম হচ্ছে। গ্রামে এখন বড় বড় দোকানপাট গড়ে উঠেছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের জাকির হোসেন দীর্ঘ একযুগ ধরে ফেরি-ব্যাবসা করেছেন। যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে তার হাড়ি, গামলা, চালুন, হাতা, প্লাস্টিক ও স্টিলের আসবাবপত্র সামগ্রীর ব্যাবসা। জাকির হোসেন এখন কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, ফেরি ব্যাবসা এক সময় খুব লাভজনক ছিলো। মানুষ বিভিন্ন মালামাল কেনার জন্য ফেরিওয়ালার অপেক্ষায় থাকতো। কিন্তু এখন গ্রামে গ্রামে দোকান হওয়ায় ফেরি ব্যাবসা শেষ। সেসময় এত দোকানপাটো ছিলোনা। ব্রজপুর গ্রামের সাহাদ আলীও এক সময় ফেরিওয়ালা ছিলেন। চানাচুর-বাদামের ফেরি ব্যাবসা করে তার সংসার চলতো। কিন্তু এখন ফেরিওয়ালাদের কাছে মানুষ আর মালামাল কিনতে চায়না। তাই বাধ্য হয়ে তিনি নতুন ব্যাবসা শুরু করেছেন। কাঁচামালের বাজার থেকে সবজি কিনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন।
গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা একসময় ফেরি ব্যাবসা করে সংসারে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফেরিওয়ালাদের কাছে থেকে ক্রেতারা মালামাল ক্রয় করতে বিমুখ হওয়ায় এখন তারা ভিন্ন পেশা বেছে নিচ্ছেন। রামনগর গ্রামের এক সময়ের ফেরি ব্যাবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ফেরি করে গ্রামে গ্রামে একসময় ঘুরতাম। এখন মানুষ আধুনিক হয়েছে বড় বড় মার্কেটে তারা বাজার করে। আমরা ফেরি ব্যাবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে রাজমিস্ত্রী যোগালি দিয়ে সংসার চালায়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

হাড়াভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাফি বলেন, ফেরিওয়ালা এখনো কয়েকজন আছে। তারা মালামাল বেচতে আসে কিন্তু পাড়া মহল্লায় বড় বড় দোকানপাট হওয়ায় ফেরিওলার থেকে মালামাল কেউ তেমন কেনেনা।