
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২১, ১:২৭

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষা বাঁধে ধস শুরু হয়েছে। প্রায় ১০ মাস পর আবারো সদর উপজেলার শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। গতকাল রোববার ভোরে হঠাৎ সেতু রক্ষা বাঁধের ৫০ মিটারের বেশি গড়াই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় একটি বসতবাড়ির অর্ধেক নদীতে চলে যায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদী পাড়ের বাসিন্দারদের মাঝে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে হরিপুরবাসীর স্বপ্নের শেখ রাসেল সেতু। বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধসে পড়া স্থান থেকে শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। কুষ্টিয়া শহরের একেবারে গা ঘেঁষে হরিপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নকে শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ২০১৭ সালে গড়াই নদীর ওপর শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি ওই বছরের ২৪ মার্চ উদ্বোধন করা হয়। সেতুটি রক্ষার জন্য উভয় পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধও তৈরি করা হয়। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। আর সেতুর উভয় পাশের ৪১০ মিটার ব্লক বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় আরও প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে হরিপুর অংশে সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব পাশে অন্তত ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের চার বছর পর বাঁধে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর একই জায়গায় বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার ব্লক গড়াই নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় বছর খানেক আগে থেকেই নদীর এ স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে সেতুটি। এদিকে, জালাল মোল্লা নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ”ঠিকমতো কাজ করলি বাঁধ ভাঙবি ক্যা “ গুড়াতেই গলদ রইছে তাই বারবার বাঁধে ভাঙন দেখা দেচ্চে। জামাল শেখ আরও বলেন, 'প্রতিবছর বাঁধ ভাঙতিছে; কিন্তু মেরামতের নাম নেই। এম্বা চলতি থাকলি তো ব্রিজটায় ভাইঙে যাবে নে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন জানান, প্রায় ১০ মাস আগে একই জায়গায় বাঁধটিতে ধসের সৃষ্টি হয়েছিল। আবারো একই জায়গায় পূণরায় ধসের সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁধটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মণ্ডল বলেন, নদী শাসনের কাজ তাদের নয়। এ ব্যাপারে তাদের বাজেটও নেই। এ বিষয়ে পাউবোকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২০১৭ সালে সেতুটি উদ্বোধনের সময়ই চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়। তবে পাউবোর কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন, ওই প্রকল্পটির কর্তৃপক্ষ এলজিইডি। ওটার কোনো দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নেবে না। বাঁধ মেরামত করতে হলে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণ করার দায়িত্ব এলজিইডির। কিন্তু এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের। তাদেরকে এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুটি যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।