প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২১, ০:৩৮
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় দুই হাজার একর ফসলি জমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া সরকারি খালে স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী মাছ চাষের স্বার্থে সরকারী খালে বাঁধ দিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চাষাবাদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের জন্য এ খালটি ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থান্বেষী কাজের জন্য খালটির বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। এতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ ও নিস্কাশনের পথ বন্ধ হলে প্রায় দুই হাজার একর জমি বছরের অর্ধেক সময় ধরে পানিতে ডুবে থাকে।
ভূক্তভোগী মো. আসাদুজ্জামান আলমগীর জানান, খালের উপর বাঁধ দেয়ার কারণে তিন ফসলি এ জমিতে এখন আর ফসল হয় না। ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পিএনডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গত বছর প্রায় দুইশত লোকের উপস্থিতিতে সমাধানের আশ্বাস দিলেও অদ্যবধি কোন সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
একাধিক কৃষক জানান, সরকারী খাল সকলের ব্যবহারের সুবিধার জন্য করা হয়েছে। সেই খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় আমরা চাষাবাদ হতে বঞ্চিত হচ্ছি। অতি দ্রুত এ বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে স্ত্রী-সন্তানসহ আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। অভিযুক্ত খাল দখলকারি মো. আক্কাস হোসেন মোল্লা বলেন, জনস্বার্থে যেটা করা দরকার আমরা সেটা করবো।
এবিষয়ে ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ তালুকদার জানান, জনগনের স্বার্থে আমি বাঁধ কাটার পক্ষে। মাসিক মিটিংয়ে এ বিষয়টি উত্থাপন করেছি। এ খালের এ বাঁধ অপসারণ করা হবে।কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, ওই বাঁধটি অপসারন করার জন্য চেয়ারম্যানকে বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের এ জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে।