প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১, ১৯:৪৬
মহামারি করোনা সংক্রোমণ রোধে সরকার ঘোষিত ১ জুলাই থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। সরকারি নির্দেশনা মতে জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক ও এ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এসকল যানবাহনের বাইরে সকল প্রকার যাত্রীবাহী যানবাহন নদী পারাপার বন্ধ। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবাদে ফেরি পারাপার হচ্ছে ব্যক্তিগত যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী। গত শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে সরেজমিন গিয়ে এমনি চিত্র দেখা যায়।
শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসি’র অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পার হয়েছে ১১৬৯ব্যক্তিগত গাড়ী প্রাইভেটকার, মাক্রোবাস ও ছোট ট্রাক নদী পার হয়েছে ১৩৩৭ টি। তাছাড়াও এসময় অনেক যাত্রী ফেরি পারাপার হতে দেখা যায়। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ী বিভিন্ন প্রকার ষ্টিকার লাগানো রয়েছে। গাড়ীতে থাকা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া এসেছে এসব গাড়ীগুলো।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকা ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া পারে ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ফেরি ঘাট স্বাভাবিক রয়েছে। ১, ২ ও ৩নং ফেরি ঘাট অকেজো হয়ে পরে আছে। এই নৌরুটে বর্তমান রোরো (বড়) ৯টি, ইউটিলিটি (ছোট) ৭টি এবং ১টি কে-টাইপ ফেরি সহ মোট ফেরি১৭টি। যার মধ্যে যানবাহন কম থাকার কারণে মাত্র ১৭টি ফেরি পর্যায়ক্রমে চলাচল করছে। স্বার্বক্ষনিক ৭টি ফেরি চলাচল করছে।
এসময় অনেক চালক অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে ফেরি পারের টিকিট নিতে হয়। প্রাইভেটকারের ভিতর বসে থাকা কামরুল নামের এক ব্যক্তি সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জরুরী কাজ তাই যেতে হচ্ছে। মহাসড়কে গনপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেটকার ভাড়ায় নিয়ে এসেছি। এতে আমার অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়েছে। এসময় পাশে বসে থাকা প্রাইভেটকারের চালক বলেন, ঢাকার শহরে বসে থাকলে চলবে কিভাবে। ঘর ভাড়া, বিদুৎ বিল, পানি বিল সহ নানা প্রকার ব্যয়। এসকল টাকা আমরা দেবো কোথায় থেকে। যে কারণে বাধ্য হয়ে এসেছি।
মো. খালেক নামের এক ব্যক্তি বলেন, মাদারিপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছি। মহাসড়কে একাধিক জায়গায় পুলিশ ধরেছে। বলে-কয়ে এসেছি। তবে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে সহজে ফেরি’র টিকিট পেয়েছি। ঘাটে কোন প্রকার সমস্যা নেই। তবে একটু টাকা বেশি।কামরুন্নাহার নামে এক নারী বলেন, স্বামী-সন্তান ঢাকায় রয়েছে। যে কারণে আমাকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মহাসড়কে একাধিকবার সমস্যা হয়েছে। ফেরি ঘাটে কোন সমস্যা হয়নি। জানিনা ওপারে কি হয়।
এসময় কালাম নামের এক অটো রিক্সা চালক বলেন, মহাসড়কে শতশত ব্যক্তি গত গাড়ী প্রাইভেটকা-মাক্রোবাস চলছে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। আমরা রাস্তায় বের হয়ে পুলিশ মামলা-জরিমানা করছে। কিন্ত পুলিশের চোখের সামনে শতশত ব্যক্তিগত গাড়ী চলাচল করছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, যানবাহন কম থাকার কারণে ১৭টি ফেরি পর্যায়ক্রমে চালানো হচ্ছে। তবে আগামী ঈদের জন্য ফেরি ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন গুলো নদী পারাপার হচ্ছে কিভাবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত গাড়ী পাশ নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। তবে পাশ ছাড়া আমরা কোন ব্যাক্তিগত গাড়ি পারাপার করছি না। তাছাড়া কোন জরুরী কাজ ছাড়া যাত্রী তেমন নদী পার হচ্ছে না।