প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২১, ১১:১০
পলিথিনের কাগজ আর বাঁশ দিয়ে বানানো ঘরে থাকেন মতি বেপারী দম্পতি। সন্তানদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার আর পরনের কাপড় জোগাতেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন অল্প বয়সে দুটি শিশু সন্তান নিয়ে পলিথিনের ঘরে দিন কাটছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের উত্তর চন্দনকর গ্রামের মতি বেপারী (২৮) ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগমের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকরবইউনিয়নের চন্দনকর গ্রামের কাবিল বেপারী দরিদ্র হওয়ায় ছেলে মতি বেপারীকে ২০১১ সালে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা করে দেন। এর পর থেকে অন্যের বাড়িতে থাকতেন মতি বেপারী। দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে বসবাস করার পরে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন বাড়িওয়ালা। কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে বাবার বাড়িতে উঠেন মতি বেপারী।
বাবার বাড়ি উঠেও পরেন বিপাকে এইখানে নেই থাকার ঘর।মতি বেপারীর বাবা কাবিল বেপারী ৫ ছেলে ও নাতিপতি নিয়ে থাকেন ছোটো একটি ঘরে। বাবার ঘরে জায়গা না পেয়ে একটু উচু মাটেতে পলিথিনের ঘর বানিয়ে দু'টি শিশু সন্তান নিয়ে মতি বেপারীর দম্পতির মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দিনমজুরের কাজ করে তাদের সংসারের খরচই চালাতে পারেন না। যার ফলে ঘরও উত্তোলন করতে পারেন না। ভিটেবাড়ি বা কোনো কৃষি জমিও নেই মতি বেপারীর।
উত্তর চন্দনকর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে কৃষি জমি। জমিতে ইরিধান আবাদ করা হয়েছে। বাবার ঘরের কোণে পলিথিনের কাগজ দিয়ে ৯ থেকে ১০টি বাঁশের খুঁটি দিয়ে বানানো হয়েছে ডেড়ার মতো একটি ঝুঁপড়ি ঘর। ওই ঘরের সামনে ও পূর্বপাশে রান্না করার জন্য দুটি মাটির চুলা।
ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, এক কোণায় একটি কাঠের বাক্স তার উপরে একটি পানি রাখার জগ ও একটি গামলা। আর মাটিতেই বিচানা করা তার ভিতরে রবিউল ৮ ও মরিয়ম ৪ নামে তাদের দু'টি শিশু সন্তান খেলা করছে। পাশেই মতি বেপারীর স্ত্রী রাশিদা বেগম(২৬) মাটির চুলায় কুটা দিয়ে আগুন জালিয়ে ভাত রান্না করছেন।
অল্প বয়সেই এসে এমন মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে মতি বেপারীর স্ত্রী রাশিদা বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর দিন আনে দিন খাই। একটু-জমিও নাই, কারো কাছে চাইতেও পারি না আবার দু-একটা মুরগি পালুম তাও পালতে পারি না। তাও মাইনসে বকে, ভাত মিলে না আবার মুরগি পালে। জমিও নাই আমাগো। যদি সরকার আমাদের একটি থাকার স্থান করে দেয় তাহলে দু'টি শিশু সন্তান নিয়ে একটি মাথা গোজার জায়গা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক মোঃ মাসুদ খান বলেন, মতি বেপারী দিন আনেন দিন খান। খুব কষ্ট করে চলছেন। উনার কিছুই নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের বাড়ি নেই গৃহহীন তাদের বাড়ি ও পাকা ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এমন একটি বাড়ি ও ঘর পেলে পরিবারটি একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালী বলেন, মতি বেপারী সত্যিই খুব অসহায়। জমি জমাও নেই। পলিথিন দিয়ে ছাপরা তৈরি করে থাকেন। আমি উপজেলা নির্বাহী স্যারের সাথে কথা বলবো দেখি তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার একটি বাড়ি একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি।
#ইনিউজ৭১/জিহাদ/২০২১