
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:২৬

আশাশুনি উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া ছোট বড় অর্ধশতাধিক খাল এখন যৌবন হারিয়ে শীর্ণ খালে পরিনত হয়েছে।প্রভাবশালীরা নামে বেনামে দখল করে রাখায় খাল গুলো যেন মরা খালে পরিনত হচ্ছে।কাগজ পত্রে প্রায় খালেরই কোন নাম ঠিকানা নেই।
নদী ও খালের সংযোগ স্থল এবং উৎস মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে খালগুলো চরম সংকটাপন্ন অঅবস্থা বিরাজ করছে।উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান খালগুলোর অসিÍত্ব এখন হুমকীর মুখে পড়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে পরিবেশর ইকোসিষ্টেম চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।পরিবেশের এই বিরুপ প্রভাবে মাছের উৎপাদন কমে গেছে,সেচ কার্য ব্যহত হওয়াসহ জীব বৈচিত্র বিলীন হচ্ছে।উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদী সংলগ্ন মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিমখালি খাল,ধোপাখাল,বোশ খাল,শইলমারী খালকোদরশা খাল,হলদে পোতার খাল,
চেউটিয়া খাল,তেতোখালির খাল,পাংগামারীর খাল,পুটিমারি খাল,দোহরখাল,শালখালি খাল,গলঘেসিয়া খাল,পুইজালা খাল,হাজরাখালির খাল,কাঁকড়াবুনিয়া,সোনাবাঁধল,কালিকাতলাখাল,বজরা খাল,দাঁড়ার খাল,গাবতলীর খাল,কলাবাড়িয়া খাল,মোকাম খালির খাল,গৌরাঙ্গ কুমারীর খালগুলো এক সময় সেচ কাজের ক্ষেত্রে ও নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে সেই অবদান চিরদিনের জন্য স্থবির হয়ে গেছে।উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খালে প্রয়োজন ছাড়াই যত্রতত্র বাঁধ তৈরি এবং খাল দখল করে স্থপনা নির্মান করায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


ফলে অধিকাংশ খাল তাদের যৌবন হারিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে।অপর দিকে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে ।এক সময়ে নদী পথে আশাশুনি উপজেলার সাথে নৌ পথই ছিল যোগায়োগের মাধ্যম।অত্র নৌ পথে নৌকা,ট্রলারসহ ছোট বড় নৌযান চলাচল করায় ব্যবসা ব্যানিজ্যের ব্যাপক প্রসার ছিল।নদী পথে পণ্য সমগ্রী পরিবহন খরচ কম থাকায় এই পথে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা নেওয়া করতো।কিন্ত সম্প্রতিক কালে খাল গুলো ভরাট হয়ে নব্যতা হারিয়ে ফেলায় এখন আর কেউ নৌ পথে মালামাল পরিবহন সম্ভব হয়ে উঠে না।
প্রধান হাট বাজার বুধহাটা বড়দল,গোয়াডাঙ্গা এ পথে মালামাল আনা নেওয়া করা হতো।এ পথে খরচ ও সময় বাঁচত ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে খালগুলো নব্যতা কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল করতে পারে না।ফলে উপজেলায়র বিভিন্ন হাট বাজারে মালামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মানুষের লোভের কারনে দূর্বল ¯্রােতের খালগুলো দখল,গতিপথের পরিবর্তনের পাশাপাশি নব্যতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারনে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার মানচিত্র থেকে অনেক খালের অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে।খাল ভরাটের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং খাল খননের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহন করা না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যৎ এ খালগুলো আশাশুনির মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে পরিবেশবিদ গন মনে করেন।