দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা ও জ্বালানি আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দেড় থেকে দুই মাস দেশে কমবেশি লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে; কিছু সময় পরিস্থিতি আরও খারাপও হতে পারে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৫টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে উৎপাদন ও সরবরাহ করা গেছে মাত্র ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট, ফলে ২ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে, যা ২৬ এপ্রিল উৎপাদনে ফিরতে পারে। পাশাপাশি বাঁশখালীর এস আলমের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে ত্রুটির কারণে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। ২৮ এপ্রিল থেকে এটি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে পারে।
সরকার গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমন্বিত লোডশেডিং করার নির্দেশনা দিয়েছে যাতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। একই সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা জানান, বর্তমানে সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন সম্ভব প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে, যা পূরণে লোডশেডিং ছাড়া বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট। গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন দিনে প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি আমদানির উচ্চমূল্য, অতীতের আর্থিক লোকসান ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং কারিগরি কারণে মাঝে মাঝে সরবরাহ বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেছে।