গ্রীষ্ম এলেই বাজারে মৌসুমি ফলের সমারোহ দেখা যায়। এর মধ্যে প্রথম সারির জনপ্রিয় ফল জামরুল এখন দৃষ্টি কাড়ছে সর্বত্র। দুধসাদা কিংবা লাল রঙের ঘণ্টাকৃতির এই ফলটি আমাদের দেশে জামরুল, আমরুজ, গোলাপজাম কিংবা সাদা জাম নামেও পরিচিত। রসালো ও জলসমৃদ্ধ হওয়ায় গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখতে জামরুলের জুড়ি নেই।
সরেজমিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উঁচু টিলার ওপর বিস্তৃত একটি ফলবাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে দুধসাদা জামরুল। সরু ডালে ঝুলে থাকা ফলগুলো যে কারও নজর কাড়ে। বিশাল ওই বাগানে দেশীয় ফলের মধ্যে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস, লেবু, সফেদা, কলা, পেয়ারা ও জাম্বুরার পাশাপাশি বিদেশি ফল ‘বার্বাডোস চেরি’সহ বিভিন্ন বিরল ফলজ ও বনজ গাছের সমাহার গড়ে তোলা হয়েছে।
বাগানটির উদ্যোক্তা শহরের জালালিয়া রোড এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আহাদ জানান, দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি দেশি-বিদেশি ফল ও ওষুধি গাছের সমন্বয়ে বাগান গড়ে তুলেছেন। গ্রীষ্ম মৌসুমে জামরুল, চেরি, কাঁঠাল, লিচু ও আনারস বিক্রি করে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। চলতি বছরও সব খরচ বাদ দিয়ে উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরমের এই সময়ে আনারস, লিচু, আঙুর, বেদানা, তরমুজ ও আমসহ বিভিন্ন ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে জলীয় অংশ বেশি থাকায় জামরুলের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জামরুলে রয়েছে প্রায় ৮৯.১ শতাংশ পানি, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা জানান, জামরুলে কমলার তুলনায় তিন গুণ বেশি খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্যালসিয়াম লিচু ও কুলের সমান এবং আঙুরের দ্বিগুণ। আয়রন, ফসফরাস ও ফাইবারসমৃদ্ধ এই ফল হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। জাম্বোসাইন নামক উপাদান শর্করাকে চিনিতে রূপান্তর প্রক্রিয়া ধীর করে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধ, কোলেস্টেরল কমানো, হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং লিভার ও মস্তিষ্ক সুরক্ষায় জামরুল কার্যকর ভূমিকা রাখে।
একই বাগানে দেখা গেছে বিদেশি ‘বার্বাডোস চেরি’ বা এসেরোলা চেরি গাছে একসঙ্গে ফুল ও ফল। কোমল ও টসটসে এই ফল স্বাদে মিষ্টি কিংবা টক-মিষ্টি হয়ে থাকে। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রস্তর যুগ থেকেই মানুষের খাদ্যতালিকায় চেরির উপস্থিতি রয়েছে এবং খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালে গ্রিক লেখক থিওফ্রাস্টাস চেরির লিখিত বর্ণনা দেন।