প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১৬:৫৫

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সমাজে 'নারী নেতৃত্ব' প্রতিষ্ঠা করতে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ২৫ জন নারী নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
গত রোববার থেকে শুরু হওয়া দুইদিন ব্যাপী উপজেলার দাউদপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ হয়।
ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের (সিসিডিবি) "সমান আওয়াজ"প্রকল্পের নবাবগঞ্জ উপজেলার শাখার উদ্যোগে ও কোডি ইনস্টিটিউট অব সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ইউনিভারসিটি অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়।
সোমবার প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মারিয়া সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রকল্পের নবাবগঞ্জ শাখার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাহফুজা নাজনীন।

প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অংশ নেওয়া ওই ২৫ নারীকে নারীবাদ, নারী নেতৃত্ব, নারী নেতৃত্বের গুণাবলী, নারীবাদের মূল্যবোধ, জেন্ডার ও সেক্স ধারণা, জেন্ডার সমতা ও জেন্ডার ন্যায্যতা, জেন্ডারভিত্তিক শ্রমবিভাজন, পিতৃতন্ত্র ও পিতৃতন্ত্রের ইতিহাস, পিতৃতান্ত্রিক প্রচলিত বিশ্বাস এবং নারীর ক্ষমতা ও ক্ষমতার ধরন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুইদিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারীরা তাদের পরিবার, গ্রাম ও পর্যায়ক্রমে নিজের উপজেলায় নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। সেইসঙ্গে নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে সুবিধাবঞ্চিত সকল সম্প্রদায়ের নারীদের অংশগ্রহণের পথ সুগম হবে বলে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যাশা করেন।
প্রশিক্ষণে বক্তব্য প্রদানকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সমাজে নারী শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক এগিয়ে গেলেও অধিকাংশ নারী নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেননি। এছাড়া, পুরুষশাসিত সমাজের কারণে সংসারের গণ্ডি থেকে বের হতে পারেন না। নারীরা কর্মজীবি ও স্বাবলম্বী হলে সমাজে নারীদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজ নারীদের সম্মান বাড়বে।
এ বিষয়ে প্রকল্পের নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাহফুজা নাজনীন বলেন, 'সমান আওয়াজ প্রকল্প' সমাজে নারীর নেতৃত্ব উন্নয়নে কাজ করছে। সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ের নারী বা অন্যান্য শ্রেণিগোষ্ঠীর নারীরা যাতে তাদের অধিকারগুলো সম্পর্কে সচেতন হন, তাদের অধিকারগুলো কীভাবে নিজেরাই সুরক্ষা করতে পারে এবং কোথায় গেলে তারা অধিকারগুলো অর্জন করতে পারবেন সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।