মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলম। উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডোমাবাড়ী গ্রামের এই উদ্যমী কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন জাতের তরমুজ চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফলে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া।
লালতীর কোম্পানির উদ্ভাবিত এবং চীন থেকে আমদানিকৃত নতুন জাতের এই হলুদ তরমুজ দেখতে আকর্ষণীয় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। অসময়ে ফলন হওয়ায় কৃষক ভালো দামও পাচ্ছেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ তার ক্ষেত পরিদর্শনে আসছেন। অনেকেই সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের হলুদ ও লাল তরমুজ। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থী মো. আছাদ উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে এখানে এসেছি। প্রথমবার হলুদ তরমুজ খেয়ে দারুণ লেগেছে। অপর দর্শনার্থী তানভীর জানান, ব্যতিক্রমী এই চাষ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং স্বাদেও আলাদা।
খোর্শেদ আলম জানান, তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছর ফলন কম হলেও গত বছর লাভবান হন। এবার তিন বিঘা জমিতে ল্যানফাই জাতের হলুদ ও লাল তরমুজ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে বিক্রি থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন এবং মৌসুম শেষে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় আশা করছেন।
প্রবাসী নাসিম আহমদ বলেন, বিদেশে না গিয়েও দেশে আধুনিক কৃষির মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব—খোর্শেদ তার প্রমাণ দিয়েছেন। দর্শনার্থী হাবিবুর রহমান জানান, এই তরমুজ খেয়ে তিনি নিজেও চাষের পরিকল্পনা করছেন।
লাল তীর সীড লিমিটেডের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী বলেন, তাদের দেওয়া হাইব্রিড ল্যানফাই জাতের তরমুজ সবুজ ডোরাকাটা হলেও ভেতরে হলুদ শাঁসযুক্ত ও অত্যন্ত মিষ্টি। ৬৫–৭০ দিনে ফলন আসে এবং উত্তম পরিচর্যায় প্রতিটি তরমুজের ওজন ৫–৬ কেজি হয়। প্রতি একরে উৎপাদন হয় প্রায় ৩০–৩৫ টন।
গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিংহ জানান, কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ সফল হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, নতুন জাতের এই তরমুজ স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও পরিচিত খোর্শেদ আলম দীর্ঘদিন পরিবেশ ও কৃষি নিয়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষের মাধ্যমে এলাকাকে ‘তরমুজ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।