
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০:৫৬

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলে কেশর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার লাভবান হয়েছেন এখানকার কৃষকরা। প্রথমবারের মতো উপজেলার চরাঞ্চল বেষ্টিত গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নে কেশর আলুর চাষ করা হয়েছে। স্থানীয় হাট-বাজার গুলোতে প্রতি মন কেশর আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২'শ থেকে ১ হাজার ৫'শ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে কেশর আলুর চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে গাবসারার রায়বাশালিয়া এলাকায়।
বালুর নিচে গুপ্তধনের মতো থোকা থোকা ধরে রয়েছে কেশর আলু। গাছ ধরে টান দিলে গাছের সাথে বালুর নিচ থেকে উঠে আসছে কেশর আলু।
গাবসারা চরাঞ্চলের রায়ের বাশালিয়া এলাকার কেশর আলু চাষি রানা মিয়া বলেন- আমি উপজেলার কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথম বারের মতো ৯ বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে ৫০ থেকে ৬০ মন কেশর আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বিঘাতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার কেশর আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে।


যমুনা চরাঞ্চলের ছবুর মিয়া কেশর আলু চাষিরা বলেন- প্রথম বার আমরা কেশর আলু চাষ করেছি। আমাদের এখানে কেশর আলুর আবাদ কেমন হবে সেটা নিয়ে আমরা চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি বিভাগে পরামর্শে সঠিক সময় বীজ বপন ও সার প্রয়োগ করায় কেশর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খেত থেকেই পাইকাররা কেশর আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
মিনহাজ আলী বলেন- কেশর আলু আমাদেরকে কষ্ট করে বিক্রির জন্য হাট বাজারে নিতে হচ্ছে না। ফলন ভালো হওয়ার দ্বিগুন লাভ হচ্ছে। এরপরে আমরা আরো বেশি জমিতে কেশর আলুর চাষ করবো।
এবিষয়ে ভূঞাপুর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন- আমাদের উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের এই প্রথম কেশর আলুর চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদেরকে বীজ বপন থেকে শুরু করে উত্তোলন পর্যন্ত সকল ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি। গাবসারা ও অর্জুনা চরাঞ্চলে ১০ হেক্টর জমিতে কেশর আলু চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে কেশর আলুর চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে।