মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মিষ্টি ও রসালো ‘হানিকুইন’ আনারস চাষ করে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন সদর ইউনিয়নের ডলুছড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. আতর আলী। পাহাড়ি টিলাভূমিতে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
চাষি আতর আলী জানান, ডলুছড়া এলাকার পাহাড়ি জমিতে এবার তিনি মোট ৩৫ একর জমিতে ‘হানিকুইন’ আনারস ও লেবুর চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার আনারস বিক্রি করে তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন। বাকি ফল বিক্রি করে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, পুরো চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে আনারসের বাম্পার ফলন এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় তিনি কয়েকগুণ লাভের আশা করছেন। বর্তমানে বড় আকারের আনারসের পাইকারি মূল্য প্রায় ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ টাকায়।
আতর আলী বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও সহায়তা পেলে বৃহৎ পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
শুধু আনারস নয়, তার পাহাড়ি টিলাজুড়ে মাল্টা, কফি এরাবিকা, রোবাস্টা, কাজু বাদাম, লটকন, আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বেল, জাম্বুরা, নাগা মরিচ, কাঁচা মরিচ, সুপারি, কলা, শসা, করলা, লেবু, ক্যাপসিকামসহ নানা প্রজাতির ফল ও সবজি চাষ করছেন তিনি।
কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢাকার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আতর আলীকে শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গলের বিষামণি, মাইজদিহি, ডলুছড়া, হোসেনাবাদ, এমআর খান, নন্দরানী, বালিশিরা, নূরজাহান, সাতগাঁও ও মোহাজেরাবাদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি টিলাজুড়ে সারি সারি আনারস বাগান যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে।