রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশে পাঠান। এই রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে এসেছে ২৪৩ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার ৭৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)।
সৌদি আরব বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য,এবং সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এখান থেকে।তাছাড়াও দুবাই, আবুধাবি, যুক্তরাষ্ট্র ,কুয়েত,ওমান ,কাতার, মালয়েশিয়া , সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে।তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানা ধরনের কাজ করে থাকেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকেরা প্রধানত নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন। তারা বিল্ডিং, সড়ক, ব্রিজ নির্মাণ, প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক কাজ ইত্যাদি করেন।তাদের কর্মক্ষেত্রের বৈচিত্র্য দেশের প্রয়োজন ও প্রবাসীদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে।
প্রবাসী শ্রমিকেরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স পাঠান। রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতিটি তাদের বসবাসকারী দেশের নীতিমালা, প্রযুক্তি এবং উপলব্ধ ব্যাংকিং সুবিধার ওপর নির্ভর করে। যেমন, বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল, মোবাইল ব্যাংকিং(নগদ (Nagad), বিকাশ (Bkash), রকেট (Rocket ), হুন্ডি (হুন্ডি হলো একটি অস্বীকৃত (অবৈধ) পদ্ধতি, যেখানে প্রবাসী সরাসরি একটি নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান। এই পদ্ধতিতে টাকা কোনও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ব্যবহার না করে লোকাল চ্যানেলের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়), কিছু দেশ বা অঞ্চলে, প্রবাসীরা পোস্ট অফিস বা অন্য যেকোনো স্থানীয় রেমিট্যান্স সার্ভিস ব্যবহার করে টাকা পাঠান।