প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০:৩৬
কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের ৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর প্রায় চার মাস পার হতে চললেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি আওয়ামীলীগ।
পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য একটি খসড়া তালিকা করা হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আংশিক কমিটির শীর্ষ নেতারা তাদের নিজের লোক ও আর্থিক সুবিধা ব্যতীত অন্য কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামীলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন-সংগ্রাম আরো কঠিন আকার ধারণ করবে। এসব আন্দোলন-সংগ্রামে একজন সৈনিক হিসেবে মাঠে থাকার জন্য পথ-পদবির প্রয়োজন হয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করায় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকে।
তারা রাজপথে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা এবং বিরোধীদের আন্দোলন মোকাবেলা আরও জোরদার করার দাবি জানান।
গত ২ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ২৬ বছর পর দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এ আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ওই কমিটিতে একেএম সফিউদ্দিন সফিকে সভাপতি, একেএম মনিরুজ্জামান মাস্টারকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোস্তফা কামাল চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির ও এজাজ মাহমুদকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আবদুল মতিন সরকারকে সিনিয়র সদস্য করা হয়েছে।
আংশিক কমিটি ঘোষনার সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর ও ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক) সুজিত রায় নন্দী।
বুধবার বিকেলে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ম. রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দেবীদ্বার আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা এখনো পূর্নাঙ্গ কমিটি করে জমা দিতে পারেনি তাই কমিটির পূর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে বিলম্ব হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার এক সদস্য বলেন, একজন শীর্ষ নেতার নিজস্ব লোকের পদায়ন ও আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় ঝুলে আছে দেবীদ্বার আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল চৌধুরী বলেন, আমাদের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে, কিছু দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্মেলনের ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা না হলে ওই অসম্পূর্ণ কমিটি আর কার্যকর থাকে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, ২৬ বছর পর উপজেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ের নেতৃত্বেরও একটি চাঁপ আছে। কমিটির নির্ধারিত ৭১ সদস্যের বিপরীতে ১০ গুন নেতা কর্মীরা কমিটিতে আসার আবেদন করেছেন। তাদের থেকে ৭১ সদস্যের কমিটি নির্বাচনে একটু বিলম্বতো হবেই।
উল্লেখ্য এর আগে ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি ও একেএম মনিরুজ্জামান মাস্টারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিলো। দলীয় কোন্দলের কারণে গত ২৬ বছর ধরে এক কমিটি দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিলো উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, এরই মধ্যে ১৪ জন নেতার মৃত্যু হয়েছে, ২ জন নেতা বিএনপিতে যোগদান করেছিল প্রায় ১৮ জন সংগঠনের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখেননি, যাদের কেউ চেনেনও না। বাকীদের মধ্যে ৬/৭ জন সক্রিয় থাকলেও বাকীরা আধা সক্রিয় ছিলেন।