
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৫

পিরোজপুরে ১৮ বছর পর গঠিত জেলা ছাত্রদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক বানিজ্য ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে। আর ওই কমিটিতে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে থাকা, অছাত্র, প্রবাসী , চাকুরী জীবী, দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দুরে থাকা, সভাপতি ও সম্পাদকের প্রেমিকা ও স্ত্রীদের দেয়া হয়েছে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন পদে। আর এ সব অভিযোগ করে জেলা ছাত্রদলের একটি গ্রুপ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, গত প্রায় ১৮ বছর পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত গত ১৪ সেপ্টেম্বর ৩৪৯ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে গত ২০১৮ সালের ৫ জুন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হাসান আল মামুনকে
সংগঠনের জেলা সভাপতি, মো. বদিউজ্জামান রুবেলকে সাধারন সম্পাদক, মো. তানজিদ হাসান শাওনকে জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, সালাউদ্দিন কুমারকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষনার ৩ বছরের বেশী পরে ওই পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়।
জেলা ছাত্রদলের একাংশ কর্তৃক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান আল মামুন এর প্রেমিকা শাম্মি আক্তার রোশনিকে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মো. বদিউজ্জামান রুবেল এর দ্বিতীয় স্ত্রী শেখ নিশাত আক্তার নিশুকে কমিটির ২নং সদস্য, ছোট বোন আমেনা আসলামকে সহ-ছাত্রী
বিষয়ক সম্পাদক ও অন্য এক বোন তাহমিনা আক্তার জুইকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এদের কেউই ছাত্রদলের কোন কর্মকান্ডে না থাকলেও ব্যাক্তিগত ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কারনে এদেরকে পদ দেয়া হয়েছে। যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. তানিম সরদার করছেন ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরী, অপর এক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তমিজুল ইসলাম খান ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে চাকুরী করছেন।
জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদে দেয়া ৬৪ জনের মধ্যে ৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে গত ১০ বছর ধরে দুবাইতে থাকা মো. সোহেল খান, একইভাবে জার্মান প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন খান সজল, বিএনপি বা অংগদলের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত না এমনকি স্বামী জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা জাতীয়পার্টি (জেপি) এর মনোনীত হিসাবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা’র স্ত্রী তাহমিনা আক্তার জুই, জেলা কৃষকদলের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজান শেখ, তথ্য গোপনের দায়ে পিরোজপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে কেন্দ্র কর্তৃক অব্যহতি দেয়া আলাউদ্দিন হাওলাদার, বর্তমানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদে থাকা মিজানুর রহমান শরীফ, মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান মুন্সি এ ৭ জনকে সহসভাপতি করা হয়েছে।

একইভাবে জেলা ছাত্রদলের ৬৪ জন যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের মধ্যে পিরোজপুর সদর থানা স্বেচ্ছা সেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাহাত হাসান, বিতর্কিত শহিদ জিয়া ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম রানা, কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের নেতা সাইফুল ইসলাম
প্রত্যয়, মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহাদাৎ হোসেন খান এ ৭ জনকে ওই পদে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমানকে দপ্তর সম্পাদক, জেলার জিয়ানগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহŸায়ক মো. ফয়সাল আহম্মেদকে সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ৭নং হোগলাপাশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মাহিমকে করা হয়েছে ওই কমিটির ৩১০ নং সদস্য। এ ছাড়াও কমিটির আরো বিভিন্ন পদে স্থান দেয়া হয়েছে বয়স্ক, অছাত্র সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রদলের প্রথম ঘোষিত ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির একাধীক নেতারা কমিটির জেলা-সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আর্থিক লেন-দেন ও স্বজন প্রীতির অভিযোন করেন।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতির হাসান আল মামুনের মুঠোফোনে একাধীকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সাধারন সম্পাদক শেখ মো. বদিউজ্জামান রুবেল তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুর্নাঙ্গ কমিটির সকল নাম কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়েছেন। তবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান খোকনের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি জানান, জেলার সভাপতি-সম্পাদকের সাজিয়ে দেয়া কমিটি আমরা অনুমোদন দিয়েছি মাত্র। সেখানে কোন বানিজ্যের খবর আমার জানা নেই।