চলতি বছর পর পর কয়েক দফা বন্যার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ভূঞাপুর যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকদের। বন্যার কারনে উৎকণ্ঠায় ছিল তারা।কিন্তু সম্প্রতি বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কারনে চরাঞ্চলে চর্তুদিকে জেগে উঠেছে বালু চর। আর এই বালু চরে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তারা পরিবারের লোকজন নিয়ে বাদাম বীজ বপন শুরু করেছেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বেলটিয়াপাড়া, রুলীপাড়া, জুঙ্গীপুর, সরইপাড়া, কুঠিবয়ড়া, বাসুদেবকোল, ভদ্রশিমুল, শুশুয়া, গোবিন্দপুর, চিতুলিয়াপাড়া, কালিপুর, বলরামপুর, গাবসারা, রেহাইগাবসারা, নলছিয়া, রামপুরসহ আরো অনেক গ্রামের কৃষকরা এলাকায় বাদাম চাষ করছেন।যমুনা নদীর ভাঙন এবং বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বাদাম বীজ বপন করা শুরু করছেন।
সরজমিনে গিয়ে চরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাদাম চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ বাদামের বীজ বপন করছেন, কেউ লাঙল টানছেন আবার অনেক চাষিরা বীজ বপন করা জমি পরিচর্যা করছেন। সাথে গ্রামীণ নারীরাও বাদাম চাষে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। বাড়ির কাজের পাশাপাশি ছেলেদের সাথে মেয়েরাও সহযোগিতা করছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কাজ করছে স্কুল পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও। কাক ডাকা ভোরে সূর্য উঠতে না উঠতেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষিরা মাঠে বাদাম বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কালিপুর গ্রামের বাদাম চাষি মোঃ মিল্টন তালুকদার বলেন, বিগত বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুরোদমে বাদাম বীজ বপন ও ক্ষেতের পরিচর্যা শুরু করছি। অল্প খরচ, কম পরিশ্রমে এবং কম সময়ে বাদাম চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়। বাদাম চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া যায় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ। হাট বাজারে বাদামের ভালো চাহিদা থাকায় খরচ বাদে বিঘাপ্রতি লাভ হয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।বাদাম চাষি সাব্বির বলেন, গত বছর আমি ২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি এবং বাজারে ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এ বছর প্রায় ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি।আল্লাহ্ যদি চায় এবছর আরো ভালো ফলন হবে এবং অনেক লাভবান হওয়ার আশা করছি।