
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২০, ১৬:২২

বাংলা সাহিত্যের নির্ভীক কলমযোদ্ধা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র) ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।চেতনা, জাগরণ, দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে আসা মানবতাবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক বিরল সাহিত্যব্যক্তিত্ব।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন।

দৃপ্তকণ্ঠে তিনিই সর্বপ্রথম বাঙালি কলমসৈনিক যিনি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘কারার ঐ লোহ কপাট/ভেঙে ফেল কর রে লোপাট/রক্ত জমাট/শিকল পূজায় পাষাণ বেদি/ওড়েও তরুণ ঈশান/বাজা তোর প্রলয় বিষাণ/ধ্বংস নিশান/উড়ুক প্রাচীর/প্রাচীর ভেদি। তিনিই পরাধীনতার শিকল ভেঙে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন জাতিকে। তার জাগরণী ও বিদ্রোহী কবিতা, লাথি মার ভাঙরে তালা/যত সব বন্দি-শালায়/আগুন জ্বালা ফেল উপাড়ি। ‘এই শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল/এই শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল’। বল বীর, চির উন্নত মম শির। বা মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হবো শান্ত, এমন সাহসী কাব্য লেখনীর মাধ্যমে এ দেশবাসীকে জাগিয়েছেন।

যা সত্যিই কিন্তু দুঃখজনক। অথচ বাংলা সাহিত্যে-সংস্কৃতি, দেশপ্রেম, আন্দোলনসহ কোনো দিকে থেকেই নজরুলের ভূমিকা ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি চিরকাল শোষিত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। বাংলা সাহিত্য ও সংগীত জগতে তিনি নিয়ে এসেছেন সৃষ্টি সুখের উল্লাস।জাতীয় কবিকে স্বল্প মূল্যায়ন অতি দুঃখজনক! ইসলামী চেতনা ও আদর্শকে বিসর্জন দিতে না পারায় কবি নজরুল রয়ে গেলেন বাঙালি সমাজে অবহেলিত। জাতীয় কবির প্রতি অবজ্ঞা এবং অবহেলার অবসান চান নজরুল ভক্তসহ সুধীমহল।