আমাদের সময় পত্রিকায় কাজ করার সময় থেকে হুমায়ুন কবির খোকন ভাইকে চিনতাম। তবে ওই অফিসে থাকাকালীন সময়ে কখনও কথা হয়নি। আমাদের সময় ছেড়ে বাংলানিউজে জয়েন করার পর হঠাৎ একদিন সময়ের অফিসের নিচে দেখা খোকন ভাইয়ের সাথে। সালাম দিতেই বললো, ছোট ভাই অন্য হাউজে জয়েন করছো শুনলাম; ভালো করছো। একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকাতেই হাসতে হাসতে বললেন, আমিও তো সাংবাদিক। বেশ লজ্জা পেয়েছিলাম সেদিন। তারপর মাঝেমধ্যে কথা হতো ভাইয়ের সাথে।
গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন খোকন ভাই। সর্বশেষ দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রথম সাংবাদিক যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। প্রতিদিনই শুনি এই হাউজের সাংবাদিক আক্রান্ত। ওই হাউজের ৫ জন কোয়ারেন্টিনে। অবাক হওয়ার কিছু নেই; যদি করোনায় সাংবাদিক মৃত্যুর তালিকাটা আরও দীর্ঘ হয়। কারণ ডাক্তার ও বিভিন্ন বাহিনীর মতো সাংবাদিকরাও কাজ করছে ফ্রন্ট লাইনে থেকেই। নিজেদের টাকায় পিপিই, মাস্ক আর গ্লাভস কিনে। খুব কম অফিসই তাদের কর্মীদের ফ্রন্ট লাইনে পাঠাচ্ছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ। তার উপর ছাঁটাই আর বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় তো আছেই।
করোনা সংকটের মধ্যে কয়টি হাউজ বেতন বন্ধ করে দিয়েছে বা হাউজ বন্ধ হয়েছে গিয়েছে বা কতজন সাংবাদিকের চাকরি হারিয়েছেন জানেন নাকি কেউ? আর প্রণোদনা, ঝুকি ভাতা, বরাদ্দ, মেডিকেল বিল এসব তো অনেক দূরের কথা। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা মানুষগুলোর নিজেদেরই কোনো অধিকার নেই। এই বিষয়গুলো দুঃখজনক না লজ্জাজনক আমি জানি না। শুধু এতটুকু জানি গণমাধ্যমকর্মীরা ভালো নেই।