
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৫১

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন মূল্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংস্থাটি। নতুন এই দাম একই দিন রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
নতুন মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রেতাদের কমিশনও বাড়িয়েছে বিইআরসি। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিইআরসির নির্ধারিত দরে বাজারে এলপিজি পাওয়া নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই এলপিজির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে আমদানিকারকদের সরবরাহ কমে গেলে বাজারে সংকট তৈরি হয়। তখন ১৫৮৫ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার কোথাও কোথাও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়।
নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে রান্নার গ্যাসের ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। একই সঙ্গে বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।