প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ২০:১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শেষে দুটি পৃথক জোনে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ আবিষ্কার দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ রিগ ব্যবহার করে কূপটির খননকাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাসের প্রচেষ্টায় কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।
খনন শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কূপটির দুটি পৃথক জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুই জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট বা ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান ভোক্তা পর্যায়ের বাজারমূল্য বিবেচনায় এই গ্যাসের আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। তবে মজুতের পরিমাণ ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা চালানো হবে। এসব পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যাবে।
বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসানও অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানান। তাঁর মতে, দীর্ঘ খনন কার্যক্রম শেষে এই সাফল্য এসেছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নতুন গ্যাসের সন্ধান দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে। এ খবরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও আনন্দ দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এ আবিষ্কারকে নোয়াখালীবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই গ্যাসসম্পদ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও যেন এর সুফল পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।