
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫

পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভাবমূর্তির সংকট, মাঠপর্যায়ে সক্ষমতার ঘাটতি এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে বাহিনীকে নতুন কাঠামোয় সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। ১৩ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর আরও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত থাকা ২ হাজার এসআই পদে মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করতেও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন থানায় পুরোনো ও অপ্রতুল যানবাহনের কারণে দায়িত্ব পালনে যে সমস্যা তৈরি হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে ২ হাজার ৫৮৯টি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিযানের ভিডিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং কোনো অভিযোগ উঠলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র যাচাইয়ে তা তথ্যপ্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

পুলিশের আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিচারব্যবস্থার কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি অপরাধ দমন ও তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্টতা ও প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগ ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর নজরদারির সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
র্যাবের নাম, কাঠামো ও দায়িত্বেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে নতুন নাম ও কাঠামোগত আইনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।