
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৮

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের চালুর খবরে বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশী ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা করছেন।
নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগদাতা ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫টি তালিকাভুক্ত এজেন্সির মধ্য থেকে পছন্দ অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি বেছে নিতে পারবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৬ হাজার টাকা ফি দিয়ে অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পাওয়া ৩১২টি এজেন্সিকেও পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
এ ব্যবস্থায় ২৫টি এজেন্সির অনুমোদন সাপেক্ষে যে লাইসেন্সের আওতায় কর্মী নিয়োগ হবে, সেই লাইসেন্সের অধীনে বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হওয়ার পাশাপাশি অধিকসংখ্যক বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
কর্মপ্রত্যাশীদের অনেকে বলছেন, মালয়েশিয়ায় তুলনামূলক ভালো মজুরি, কাজের পরিবেশ ও ওভারটাইমের সুযোগ রয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিলের মহিউদ্দিন রিংকু জানান, তার এক আত্মীয় ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কলিং ভিসা চালুর খবরে এবার স্বল্প খরচে যাওয়ার আশা করছেন তিনি।
পাবনার চাটমোহরের পারভেস আলমও একই আশার কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে চেষ্টা করেও যেতে না পারা এই কর্মপ্রত্যাশী বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগে তিনি আশাবাদী। তার মতে, সুযোগটি বাস্তবায়িত হলে অনেক কর্মপ্রত্যাশীর বিদেশে যাওয়ার পথ সহজ হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়।
রিক্রুটিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়ার বাজারটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বাজার খুলে যাওয়া কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে অবৈধ সিন্ডিকেট ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগ ও বিএমইটি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর হলে শ্রমিকদের হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়লে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে কবে থেকে এবং কী প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো আসেনি।