প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১

হরমুজ প্রণালিকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিতে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মানচিত্রের ওপর হরমুজ প্রণালিকে গোল করে দেখানো হয়েছে। ছবিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড বোঝাতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘NEW US Territory’। ট্রাম্প এবার ছবিটির সঙ্গে কোনো আলাদা মন্তব্য বা ক্যাপশন দেননি।
এক সপ্তাহের মধ্যে একই ধরনের ছবি দ্বিতীয়বার প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। এর আগে ১৮ আগস্ট তিনি একই মানচিত্র শেয়ার করেছিলেন। সে সময়ও হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সেখানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। তেহরান মার্কিন অবস্থানকে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবেও দেখছে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে হরমুজকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে আরও চাপে ফেলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন করে মানচিত্র প্রকাশ এবং হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দেখার দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রণালিটির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।