বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একতরফা বাণিজ্য সুবিধা বা অনুদানের পরিবর্তে এখন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিতে সমতাভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় ওয়াশিংটন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অর্থ একা চলা নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শক্তিশালী বেসরকারি খাত ও বিপুল তরুণ জনশক্তিকে তিনি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি দমন, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ, কর প্রণোদনা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক এবং মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের আহ্বান জানান তিনি।
অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগ ও জ্ঞান হস্তান্তরে তাদের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অ্যামচ্যামের সহসভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দীন আহমাদও দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।