হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজের জ্বালানি চালান ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, তেহরানে পাঠানো জাহাজের তালিকাটি পুরোনো পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এতে কাতারএনার্জি এবং ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিংয়ের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসের শুরুতেই এই দুই প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
জ্বালানি বিভাগের পাঠানো তালিকায় এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য পাঁচটি এলএনজি কার্গোর উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে চারটি কাতারএনার্জির এবং একটি এক্সিলারেট এনার্জির কার্গো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক নিশ্চিত করেছেন, এসব চালান বর্তমানে কার্যকর নেই। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্থগিতাদেশ অন্তত ৮ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে বলে তিনি জানান।
আরফানুল হক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর যেসব চালান বাতিল হয়ে গেছে, সেসব জাহাজের তালিকা কীভাবে ইরানে পাঠানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, ফোর্স মেজরের কারণে এপ্রিল মাসে কাতারএনার্জির কোনো এলএনজি কার্গো বাস্তবে নেই এবং তালিকাভুক্ত জাহাজগুলো কার্যত অস্তিত্বহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফোর্স মেজর কতদিন চলবে তা নিশ্চিত না থাকায় যুদ্ধ-পূর্ব আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুল তথ্য পাঠানো হয়েছিল।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, কিছু জাহাজ ফোর্স মেজরের আওতায় থাকলেও অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ এর বাইরে রয়েছে। এলএনজি সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।