
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৪, ১৮:৪৬

সুষ্ঠু প্রজনন ও টেকসই মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে রোববার (১৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনব্যাপী মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা। আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে পোস্টারিং, সচেতনতামূলক সভা ও মাইকিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।
অপু সাহা জানান, অবরোধ চলাকালীন সময়ে কিছু জেলের নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩০৫ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় এই জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভায় পৌঁছে গেছে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলেরা পড়েছেন অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন সমুদ্রে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় তারা মানসিক চাপে রয়েছেন। অনেকেই জানাচ্ছেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
জেলে সোবহান বলেন, “এনজিওর ঋণের কারণে মানসিক দুশ্চিন্তায় আছি। এই ২৫ কেজি চাল নিয়ে ২২ দিন কীভাবে চলবো? আমার ছেলে-মেয়েরা রুজি-রুটির জন্য কষ্ট পাচ্ছে।”
মাঝি রফিক জানান, “গত বছর ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম, সেটাও এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আমার ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হবে।”

বিভিন্ন জেলে অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশি জলসীমানায় অবাধে মাছ ধরছে। তারা দাবি করছেন, সরকারী নিষেধাজ্ঞা বছরে একবার করার পরিবর্তে ভারতীয় জেলেদের সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা উচিত।
মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ রাজা বলেন, “সরকার মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও জেলেদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তবে এটি যদি মৎস্য পেশাকে ধ্বংস করে দেয়, তাহলে সংকট দেখা দেবে। আমাদের দাবি, এই অবরোধ পেছানো হোক।”
এদিকে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “জেলেদের দাবি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।”
নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, যা দেশের মৎস্য অর্থনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।