
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২১, ১৩:৮

উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়াসহ আরও বেশকিছু সুবিধা নিশ্চিত করতে ৯টি জেলায় কাজ করেছে সরকার। বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নামের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও জিওবি এর সহাতায় সারাদেশে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী এ ৯টি জেলায় ও ৭৬টি উপজেলায় এমডিএসপি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। জানা গেছে, এ প্রকল্পটি গত ২০১৪ সালে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ঠিক করা হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৫৫৬টি সাইক্লোন সেল্টার।
প্রকল্পগুলো হচ্ছে- সুপার সাইক্লোন সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জনগণ এবং তাদের সম্পত্তিসহ গৃহপালিত জীব-জন্তুর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সকলের জন্য শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ও বিভিন্ন সামাজিক এবং সরকারি কর্মসূচি যেমন- ইপিআই, এনজিও, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির উন্নয়নের জন্য সুযোগ সৃষ্টি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, সাইক্লোন সেল্টার শুধু বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়ের জন্য নয়। তা পরবর্তীতে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের জন্য ব্যবহার উপযোগি করা হবে। বিশ্বব্যংকের প্রতিনিধিরা সরাসরি এই কাজ দেখাশুনা করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশীদ খান ভোরের কাগজকে জানান, আমাদের সাইক্লোন সেল্টার অসংখ্য বিপদগ্রস্ত মানুষের জান-মালকে রক্ষা করে।
বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের (এমডিএসপি) পরিচালক জাবেদ করিম বলেন, আমাদের এ প্রকল্পের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুপার সাইক্লোনের (সিডর) প্রাকৃতিক এবং জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে বসবাসরত মানুষ এবং তাদের সম্পদসহ গৃহপালিত জীব জন্তুর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তার মধ্যে জিওবির ১০ কোটি টাকা ও বাকি টাকা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছ। বাকি কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হবে।