
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ১৫:৩২

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তা বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন। দেশের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার বা প্রশাসনের কোনো পদই স্থায়ী নয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে করে জনগণের আস্থা অর্জন সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও এই লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়।

এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বিশেষ করে মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে নজরদারি জোরদার করতে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনশেষে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন, যেখানে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের পরবর্তী দিনগুলোতেও অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইনসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ দিনে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একটি নৈশভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।