প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:১৬

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক ফোনালাপের পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিল কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে কাজ করছে। চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন বলে জানান ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিভিন্ন কারিগরি বিষয় এখনো আলোচনা চলছে। তবে সব পক্ষ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের অনুরোধে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা কার্যকর হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কিছুটা হলেও কমতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।