প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮

অবশেষে টানা উত্তেজনার পর দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। কূটনৈতিক তৎপরতার এই ফলাফলকে অনেকেই সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধবিরতির এই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ইরান ও ওমান এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আগে যেখানে বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচল করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচ শতাংশে। তবে কিছু তেলবাহী জাহাজ বিশেষ অনুমতিতে চলাচল অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারত তাদের পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলাদা সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে সীমিত পরিসরে হলেও এই নৌপথে বাণিজ্য সচল রাখার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
এদিকে প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দাবি করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে—এই শর্তেই তারা এই বিরতিকে সমর্থন করছে।
এই অবস্থান পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের আগের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। ফলে যুদ্ধবিরতির বাস্তব প্রভাব এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।