বরিশালে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, নেই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল।
প্রকাশিত: শনিবার ২২শে অক্টোবর ২০২২ ০৫:২৩ অপরাহ্ন
বরিশালে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, নেই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা

বরিশালে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই বিভাগে। এমনকি আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড কিংবা গুরুতর অসুস্থদের জন্য প্লাটিলেট দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ৮টি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। যদিও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্লাটিলেট দেয়ার সেল সেপারেটর মেশিনের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সেই মেশিন বরিশালে আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এর মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০৮ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৫ জন, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ৭৭ জন, পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ২৪ জন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ১৫৭ জন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৩৩ জন, ভোলা সদর হাসপাতালে ৮০ জন ও পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালগুলোতে ১৩৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এর মধ্যে বরিশালে ১০ জন, পটুয়াখালীতে একজন, ভোলায় পাঁচজন, পিরোজপুরে ১৮ জন, বরগুনায় সাতজন এবং ঝালকাঠিতে একজন ভর্তি হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।


শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রোগী মামুন হাওলাদার জানান, চাকরিসূত্রে ঢাকায় থাকাকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন তিনি। ১১ অক্টোবর চলে আসেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে। এরপর অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৩ অক্টোবর ভর্তি হন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভর্তির পর প্রথমে রক্তের প্লাটিলেট ছিল মাত্র ৫৬ হাজার। গত ৬ দিন চিকিৎসা শেষে এখন রক্তের প্লাটিলেট ৯৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। তবে হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মামুনের বাবা মাসুদ হাওলাদার। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা পেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানে আলাদা ওয়ার্ড নেই। ডাক্তার-নার্স ডেকে পাওয়া যায় না সময় মতো।


বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার শাহরিয়ার হক জানান, বরিশালে যে সমস্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন তারা সকলেই ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে রোগীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রক্তের প্লাটিলেট সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থাকা প্রয়োজন। তার নিচে নামলেই রক্ত দিতে হয়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে প্লাটিলেট দেওয়ার সেল সেপারেটর মেশিন নেই বরিশালে। তাই যাদের প্লাটিলেট পরিবর্তন করাতে হয় তাদেরকে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।


বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, প্লাটিলেট দেওয়ার সেল সেপারেটর মেশিনের চাহিদা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মেশিনটি হলে এই অঞ্চলের মানুষ আরো দ্রুত সেবা পাবে। তবে এখনো তারা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন না। বরিশালে যতটা সম্ভব সেবা দেওয়া হচ্ছে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ বরিশালে প্লাটিলেট দেওয়ার মেশিন আসবে তা জানাতে পারেননি এ কর্মকর্তা।