প্রকাশ: ২২ মে ২০২১, ১৭:৫০
সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি ও তাঁর হেনস্থাকারীদের বিচারের দাবিতে আজ শনিবার থেকে নওগাঁয় অনশন শুরু করেছেন একজন মানবাধিকার কর্মী। সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই মানবাধিকার কর্মী অনশন চালিয়ে যাওযার ঘোষণা দিয়েছেন।
নওগাঁ শহরের মু্িধসঢ়;ক্তর মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতে আজ সকাল ১০টা থেকে দেওয়ান আব্দুল মালেক দেওয়ান নামের ওই মানবাধিকার কর্মী অনশন শুরু করেছেন। সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওই মানবাধিকার কর্মী। দেওয়ান আব্দুল মালেক দেওয়ান ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোটার্স ফাউন্ডেশনের নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দেওয়ান আব্দুল মালেক দেওয়ান বলেন, ‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিন ইসলাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন সাংবাদিক। পেশাগত জীবনে সাহসের সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর তুলে ধরে আসছেন। দেশ ও জাতির জন্য এসব তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন করে তিনি জাতীয় হিরোতে পরিণত হয়েছেন। তাঁর মতো একজন সাংবাদিককে রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে আটকে রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা নির্যাতন করার ঘটনা মানবতার চরম লঙ্ঘন।
শুধু নির্যাতন নয়, জামিনযোগ্য একটি মামলায় একজন নারী সাংবাদিক এবং একজন মা হিসেবে একাধিকবার শুনানির পরেও জামিন না দেওয়া চরম ন্যাক্কারজনক। এছাড়া আমি মনে করি, সাংবাদিক রোজিনা কেবল একজন ব্যক্তি নয়। আজকে তিনি পুরো জাতির গণমাধ্যমের চেহারা হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে হেনস্থা করা, কণ্ঠরোধ করা মানে গণমাধ্যমকে হেনস্থা ও কন্ঠরোধ করার সামিল।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। রোজিনা সচিবালয়ে সাংবদিকতা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কতিপয় দুর্নীতিবাজ মানুষ আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। রোজিনার মতো সাংবাদিকরা জাতীয় সম্পদ। তাঁর মতো একজন মানুষের মুক্তির জন্য অনশন নয়, জীবন দিতেই প্রস্তুত রয়েছি।’
এবিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নওগাঁ জেলা শখারসভাপতি ও নারীনেত্রী সুষমা সাথী বলেন, নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দেশের স্বার্থে কাজ করেন। তিনি দেশের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতির প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন। তাঁকে হেনস্তা করা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা মানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করা। দেশের মানুষের তথ্য অধিকার খর্ব করার সামিল। দুর্নীতিকে আড়াল করতে একজন কলম সৈনিককে হেনস্তাকরা দেশের মানুষ মেনে নেয়নি।
আমরা চাই, দেওয়ান আব্দুল মালেক এর মতো সকলে একাত্ম হবেন। রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের বিচার করে রাষ্ট্র নজির সৃষ্টি করবেন। আমরা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই। সেই সাথে সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে জন্য তাদের সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
#ইনিউজ৭১/এনএইচএস/২০২১