একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিরোধী দলের এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দেন।
মামলায় আসামিরা হলেন-সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদী হাসান মোল্লা ও কনষ্টবল ফয়জুল।
মামলার বাদী মশিউল আলম খান পলাশ জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য “দুঃসময়”। তার দাবি, সে সময় প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি এবং বরিশাল-৫ আসনেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক কাজ করতেন। নির্বাচনী লিফলেট বিতরণের উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় যাওয়ার সময় নদীপথে তাদের স্পিডবোটকে ধাওয়া করা হয়। পরে বিশ্বাসেরহাট এলাকায় পৌঁছালে সাদা পোশাকধারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর বন্দর থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, অপহরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়নি। তবে নির্যাতনের কারণে তিনি এখনও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, বিশেষ করে পিঠের ব্যথা রয়েছে।