
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২২, ০:২৭

মা ইলিশ সংরক্ষনে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে থেমে নেই মা ইলিশ নিধন। প্রশাসনের অভিযানকে চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিচারে চলছে ইলিশ শিকার।
জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার ৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ইলিশ শিকার, মজুদ ও বিপনন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরই প্রেক্ষিতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে সরকার জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছে। জেলেদের সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রচার প্রচারনা চালিয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও বন্ধ করা যায়নি পদ্মায় ইলিশ শিকার।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সরেজমিন পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া চরকর্ণেশন, বাহির চরসহ কলা বাগান এলাকায় দেখা যায়, অনেক জেলেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে
নির্বিগ্নে মাছ শিকার করছে। ইলিশ মাছ শিকার করে দৌলতদিয়া চর কর্ণেশন এলাকার দূর্গম কলা বাগানে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। সেখানে ক্রেতাদের ভীরও ছিল চোখে পড়ার মত। অস্থায়ী ভাবে তৈরি হয়েছে মাছ বিক্রির বাজার। আবার অনেক ক্রেতা জেলেদের সোর্সদের সাথে যোগাযোগ করে নিদিষ্ট স্থান থেকে মাছ কিনে নিচ্ছেন। কলা বাগান ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দুলাল বেপারী পাড়া, আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়া সহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
কলা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের জন্য পান-সিগারেট ও নাস্তার দোকান সহ বেশ কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। খোঁজ নিয়ে যানা যায়, দৌলতদিয়া আক্কাছ আলী হাইস্কুলে সড়ক ও দৌলতদিয়া বাহিরচর ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকা থেকে প্রশাসনের অভিযান দেখলেই জেলেদের সোর্স মোবাইল ফোনে জেলেদের কাছে তথ্য পৌঁছিয়ে দেয়। প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি বেশ কিছু মৌসুমী জেলেরাও ইলিশ শিকারে নেমেছেন।

হোসাইন নামের এক মাছ ক্রেতা বলেন, ‘জেলেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে কলা বাগান এলাকা থেকে ইলিশ মাছ ক্রয় করেছি। কলা বাগান এলাকায় ক্রেতার সংখ্যা ভালোই। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম না।’ তবুও কিছু ইলিশ কিনতে আসলাম।
নাম প্রকাশ না কারা শর্তে এক জেলে জানান, কয়েকটি পয়েন্টে আমাদের লোক মোবাইল নিয়ে বসে আছে। প্রশাসনের লোক দেখলেই আমাদের কাছে ফোন চলে আসে। এরপর আমরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাই। তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর পদ্মা নদীতে ইলিশের সাইজ বড়। এবং নদীতে মাছও বেশী ধরা পড়ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহারিয়ার জামান সাবু জানান, ইলিশ শিকার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। অভিযানে শনিবার (১৫ অক্টোবর) ৩
জেলেকে কারাদন্ড ও এক জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এসময় অন্তত ২০ হাজার মিটার জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এর আগেও বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। পদ্মা পারের কয়েকটি স্থানে ইলিশ শিকার ও বিক্রির খবর শুনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সকল স্থানে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।