প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৮

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাট সংলগ্ন সাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে নৌকায় থাকা বেশ কয়েকজনকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের মুখে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন মাঝিমাল্লাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, সীমান্তের ওপারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

শাহপরীরদ্বীপের এক জেলে জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু নেই। নিখোঁজ ১৩ জনের সন্ধানে স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৮ জন বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয়, বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের পর বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে নতুন করে অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনাও মাঝেমধ্যে সামনে আসে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি